গড়বেতায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় ফাঁকা মাঠ, এসআইআর ইস্যুতে চাপ বাড়াল তৃণমূল

গড়বেতায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় ফাঁকা মাঠ, এসআইআর ইস্যুতে চাপ বাড়াল তৃণমূল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তারই মাঝে গড়বেতায় বিজেপির ‘মেগা কর্মসূচি’ পরিবর্তন যাত্রার সূচনা সভায় প্রত্যাশিত ভিড় দেখা গেল না। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কর্মীদের চাঙ্গা করতে আয়োজিত সভায় মাঠের একাংশ কার্যত ফাঁকাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি এসআইআর বিতর্কে বিজেপির কোণঠাসা অবস্থারই ইঙ্গিত।
সভা শুরুর আগে স্থানীয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Dharmendra Pradhan-এর। তবে তার আগেই মন্দির যাওয়ার পথে দেওয়ালে দেওয়ালে ভেসে ওঠে বিজেপি-বিরোধী পোস্টার ও ফেস্টুন। কোথাও লেখা, “যতই করো পরিবর্তন যাত্রা, এটাই বিজেপির শেষ যাত্রা”, আবার কোথাও “বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তাড়াই”। একটি পোস্টারে দেখা যায়, “পাপের ঘড়া পূর্ণ, ছাব্বিশে বিজেপি পাবে শূন্য”। শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী মন্দিরে না গিয়ে সভাস্থলেই থাকেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশ্য অল্প কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে পুজো দিয়ে আসেন।
ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য অসীম ওঝা। তাঁর দাবি, এসআইআরে যেভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি উচিত শিক্ষা পাবে। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তন যাত্রাই হবে বিজেপির শেষযাত্রা।
সভামঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীকে এসআইআর নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে শোনা যায়নি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, আগে ৫৮ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছিল, পরে চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। মোট ৬৫ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে এবং আরও ৬০ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন রয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, কমিশন সঠিক কাজই করেছে। তবে সভায় সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল তুলনামূলকভাবে কম। চিরাচরিত ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তেমন শোনা না গেলেও বারবার উচ্চারিত হয়েছে ‘জয় জগন্নাথ’, ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় সর্বমঙ্গলা’ স্লোগান।
ভাষণে তৃণমূলকে আক্রমণ করতেও ভোলেননি বিজেপি নেতারা। আগামী মে মাসে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠনের দাবি তোলেন তাঁরা। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi রাজ্যকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছেন, কিন্তু সেই অর্থ লুঠ হয়েছে। গড়বেতার আলুচাষিদের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকার গড়লে ভর্তুকি দিয়ে চাষিদের থেকে আলু কেনা হবে।
অন্যদিকে, বিজেপিশাসিত রাজ্যে ভাতা চালু থাকলেও গড়বেতার সভায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “ভাতা চাই না, চাকরি চাই।” আবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভাতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও প্রয়োজন। দুই নেতার বক্তব্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য চোখে পড়ায় উপস্থিত মানুষের একাংশের মধ্যেও কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে গড়বেতার সভা ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—এসআইআর বিতর্কের আবহে ভোটের আগে মাঠ গরম করতে চাইলেও বিজেপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top