সিঙ্গুর মামলায় বড় স্বস্তি রাজ্যের, টাটাকে ক্ষতিপূরণে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

সিঙ্গুর মামলায় বড় স্বস্তি রাজ্যের, টাটাকে ক্ষতিপূরণে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সিঙ্গুর ইস্যুতে ফের নতুন মোড়। টাটা মোটরসকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই প্রকাশ্যে এল এই গুরুত্বপূর্ণ রায়, যা আবারও বাংলার অন্যতম আলোচিত শিল্প ও রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে সালিশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে।
মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছিল, সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় টাটা মোটরসকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। শুধু মূল ক্ষতিপূরণের অঙ্কই নয়, ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ প্রদান পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ এবং মামলার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১ কোটি টাকাও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত রাজ্যের উপর চাপ কিছুটা কমল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সিঙ্গুর আন্দোলন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে টাটা গোষ্ঠীর ছোট গাড়ি ‘ন্যানো’ প্রকল্পের জন্য সিঙ্গুরে প্রায় ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। সেই জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠার পর ২০০৮ সালে রতন টাটা ঘোষণা করেন, সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে যাওয়া হবে।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার ‘সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট’ পাশ করে জমি ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। এরপর ২০১৬ সালের ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
যদিও পরে বহু কৃষক অভিযোগ করেন, জমির একটি বড় অংশ আর আগের মতো চাষযোগ্য অবস্থায় নেই। সেই বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে রয়েছে।
নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় সিঙ্গুর বিতর্ককে আবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আগামী শুনানিতে মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্প মহল, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ মানুষের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top