রাজ্য – আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা থেকে ব্যাপক হারে নাম বাদ দেওয়া এবং বহু নাম ‘বিচারাধীন’ করে রাখার অভিযোগে আগামী শুক্রবার দুপুর দু’টো থেকে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তিনিও ধর্নায় উপস্থিত থাকবেন।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তোলেন অভিষেক। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য Richa Ghosh-এর নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ থাকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের নামই যদি তালিকায় না থাকে, তবে তো ভারতের বিশ্বকাপটাই বিচারাধীন!” নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোন আইনের ভিত্তিতে ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘টার্গেট’ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। অমিত শাহ থেকে শুভেন্দু অধিকারী—বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকার পরিসংখ্যান মিলিয়ে সেই চক্রান্ত স্পষ্ট বলে অভিযোগ তাঁর। অভিষেকের কথায়, যারা বিজেপিকে ভোট দেয় না, বেছে বেছে তাদের নামই তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যা প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিচয়।
কমিশনের প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা Supreme Court of India-এ জমা দেওয়া হবে বলেও জানান অভিষেক। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “বিজেপি এসআইআর করুক বা এফআইআর, ২০২৬-এ ওরা ৫০-এর নিচেই নামবে। এক বছর আগে যা বলেছি, আজও তাই বলছি।”
বাংলার রাজনীতিতে ‘ধর্না’ শব্দটি কার্যত Mamata Banerjee-এর নামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি বারবার রাজপথে নেমেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকা ঘিরে এই আন্দোলন আসলে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রাক্কথন।
এর আগে ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফেরানোর দাবিতে টানা ২৬ দিনের অনশন বাংলার রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ২০১৯ সালে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে মেট্রো চ্যানেলে ‘সংবিধান বাঁচাও’ ধর্না দেন তিনি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির নীচে একা বসে ধর্না দেন। আবার ২০২৩-২৪ সালে ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া টাকার দাবিতে রেড রোডে অম্বেডকর মূর্তির পাদদেশেও একাধিকবার ধর্নায় বসেন।
২০২৬-এর আগে ফের মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধর্নার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তৃণমূল লড়াইয়ের জমি ছাড়তে নারাজ। কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতাকে সামনে রেখেই বিজেপিকে চাপে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


















