বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা, বিজেপিকে নিশানা মমতার

বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা, বিজেপিকে নিশানা মমতার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – মতুয়া সংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে যখন মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে নিশানা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি মতুয়া সমাজ সহ বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লেখেন, সমগ্র মতুয়া সমাজ ও মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের দেখানো পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন মানবিক সমাজ গড়ার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, বড়মা সারাজীবন সেই আদর্শকেই লালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বড়মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আত্মিক। তাঁর মাতৃস্নেহের পরশ পাওয়াকে নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বড়মার চিকিৎসা কিংবা যেকোনো প্রয়োজনে তিনি ডাকলেই ছুটে গিয়েছেন বলে জানান মমতা। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্য সরকার বড়মার অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।
মতুয়া সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং কৃষ্ণনগরে তার একটি এক্সটেনশন ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ, নতুন আইটিআই ও পলিটেকনিক কলেজ, কিষাণ মান্ডি সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে মতুয়াদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক এবং যাঁদের ভোটে সরকার গঠিত হয়, তাঁদের নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষে তিনি স্পষ্ট করে জানান, মতুয়া সমাজ সহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। বাংলার মানুষের গায়ে কোনো আঁচ পড়তে দেওয়া হবে না বলেও এদিন অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top