বিদেশ – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে আবারও বড় মোড় নিল পরিস্থিতি। বুধবার ঘুম থেকে উঠে ইরানকে কড়া হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসলামাবাদের শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে রাতের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আপাতত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল পাঁচটায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন করে কতদিন এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে পাকিস্তানের ভূমিকা টেনে এনেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধেই তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং বর্তমানে তারা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবুও পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি সাময়িকভাবে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখছেন।
অন্যদিকে তেহরানের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আমেরিকা যে শর্তে শান্তি চুক্তি চাপিয়ে দিতে চাইছে, তা তারা কোনওভাবেই গ্রহণ করবে না। বরং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাই দিয়েছে তারা।
ইরানের সংসদের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং এটি একটি কৌশলগত সময় নেওয়ার প্রচেষ্টা। তাঁর দাবি, যেকোনও আকস্মিক হামলার জন্য ইরান প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি বৈঠক নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জানা গিয়েছিল, সেখানে ইরান-আমেরিকা আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের বয়কটের কারণে সেই বৈঠক হয়নি।
এর আগে পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর প্রস্তুতিতে রয়েছে, এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সফরের কথাও আলোচনায় ছিল। তবে বাস্তবে সেই সফর বা বৈঠক কোনওটাই হয়নি, ফলে পুরো পরিস্থিতিকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের অনাগ্রহের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে যেতে দ্বিধায় রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও উপসাগরীয় স্থিতিশীলতার বিষয়টিও বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।
যদিও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও দাবি করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টাতেই আপাতত বড় সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত আপাতত থমকে থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে।



















