বড়বাজারের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার, ‘ভোট গণতন্ত্রের উৎসব’ বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

বড়বাজারের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার, ‘ভোট গণতন্ত্রের উৎসব’ বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোট গণতন্ত্রের উৎসব—এই বার্তাকে সামনে রেখে বড়বাজারের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘জবরদখল’, প্রশাসনিক চাপ এবং বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলা দখল করতে এলে পাল্টা লড়াই হবে।”
কলকাতার জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়ের সমর্থনে বড়বাজারের সত্যনারায়ণ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এই সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। এর আগে হলদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলেও প্রচার সেরে তিনি কলকাতায় এই সভায় অংশ নেন।
মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ইডি-সিবিআই এখন বিজেপির হাতের পুতুল, তারা চোখে দেখে না, কানে শোনে না।”
প্রধানমন্ত্রীকেও নিশানা করে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে যেতেন, এখন সেই সুযোগ কমে গেছে এবং প্রশ্নও আগেভাগে নির্ধারিত থাকে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে।
বড়বাজারের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “দুই লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। গণতন্ত্রে ভোট উৎসব, তাহলে এই দখলদারি কেন?” একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে মমতার বার্তা ছিল, প্রত্যেকে যেন নিজের ভোট নিজেই দেন। তাঁর সতর্কবার্তা, “না হলে এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প—সবই হতে পারে, অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।” বিজেপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না, প্রতিবাদ চলবে।
করোনাকালীন সময়ের প্রসঙ্গ টেনে বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেই সময়ে তিনি দোকান খোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং শ্রমিকদের কাজ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। নোটবন্দির সময় থেকেই সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্ভোগের বিরুদ্ধে তিনি সরব ছিলেন বলেও জানান।
সব মিলিয়ে বড়বাজারের এই সভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top