বর্ধমান – আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখল করতে যুব সমাজের ওপর আস্থা রেখেছিল বিজেপি। তারা ধারণা করেছিল, নতুন ভোটারদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত যুবসাথী প্রকল্প সেই সমস্ত হিসেব উল্টে দিয়েছে। শনিবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, এপ্রিল নয়, শনিবার থেকেই যুবসাথীর টাকা যুবকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে। এর পরই ধীরে ধীরে টাকা ঢুকতে শুরু করে এবং নতুন ভোটারদের ভাবনা ও মনোভাব পরিবর্তন হয়। যুবসাথী প্রকল্প বিজেপির সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষায় জল ঢেলে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ইতিমধ্যেই ৫৩৭১ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে। প্রায় ১৩ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে। বিধবাভাতা পাচ্ছেন এক লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৬৮ জন এবং বার্ধক্যভাতা ঢুকেছে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৭২ জনের অ্যাকাউন্টে। এত বিশাল পরিমাণ মানুষের সুবিধা পাওয়ায় বিজেপির দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অতীতে কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের সুবিধা দেওয়া হতো, এবার যুবসমাজকেও পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। রেল, সেইল বা ইসিএল-এর মতো সংস্থাগুলোতেও নিয়োগ কমে গেছে।
পূর্ব বর্ধমানে প্রায় ৫৩৭১ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকার পর যুবক-যুবতীদের মধ্যে খুশির পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই বলেছেন, যুবসাথীর টাকা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে সাহায্য করবে। একসময় যারা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করত, তাদের গলায় এখন উল্টো সুর। নতুন ভোটাররাও এই প্রকল্প ও সুবিধা বিষয়ক চিন্তাভাবনা করছেন। এসব পরিস্থিতি গেরুয়া শিবিরের জন্য নতুন ধরণের দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।



















