কলকাতা – ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বর্তমান রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন Mamata Banerjee। এরপরই রিটার্নিং অফিসার বদলের দাবিতে গত ২৪ মার্চ All India Trinamool Congress নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠায়। সূত্রের খবর, নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের জন্য নবান্নের কাছে তিনজন আধিকারিকের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন, যার মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে।
কমিশনের তরফে নির্দেশ ছিল, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে এই নামের তালিকা পাঠাতে হবে। তবে নবান্নের পক্ষ থেকে সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “কমিশন কাদের কথায় চলছে তা বোঝাই যাচ্ছে। সোমবারই ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছে ভবানীপুরে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত।
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের একাধিক প্রশাসনিক বদলির নির্দেশ ঘিরে রাজ্য–কেন্দ্র সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রধান Gyanesh Kumar-কে চিঠি লিখে তাঁর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ১৫ ও ১৬ মার্চ জারি হওয়া নির্দেশে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আকস্মিক বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দপ্তরের সচিব, পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বদলির পেছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আনা হয়নি।
তিনি আরও জানান, Article 324 of the Indian Constitution অনুযায়ী নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কমিশনের নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকলেও, অতীতে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক রীতি ছিল—এই ধরনের বদলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা এবং বিকল্প হিসেবে তিনজন আধিকারিকের একটি তালিকা চাওয়া। সেই তালিকা থেকেই নির্বাচন কমিশন একজনকে বেছে নিত।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবারের ক্ষেত্রে সেই প্রথা মানা হয়নি। বরং নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ স্তরে একতরফাভাবে বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং তা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে এবং নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।



















