জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝেই স্বস্তির বার্তা: আবগারি শুল্ক কমাল কেন্দ্র

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝেই স্বস্তির বার্তা: আবগারি শুল্ক কমাল কেন্দ্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

দেশ – মধ্য এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত চরমে পৌঁছনোর প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও, যেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এই আশঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার কেন্দ্র সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর ধার্য অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রোলের ওপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ১০ টাকা থেকে একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানির দামে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি থেকে ২.৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হত, যা বিশ্ব সরবরাহের একটি বড় অংশ। পাশাপাশি, প্রতিদিন প্রায় ১০০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসও এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হত। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে, যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২২ লক্ষ থেকে ২৮ লক্ষ ব্যারেল। শুধু তেল নয়, ভারত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে রপ্তানিকৃত মোট এলএনজির প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ ভারত ক্রয় করে। এছাড়া কাতার ও ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজিও এই পথেই দেশে আসে, যা দেশের ৩৩ কোটিরও বেশি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত।
এই নির্ভরতার কারণেই ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে কেন্দ্র সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকারের দাবি, বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ৬০ দিনের তেলের মজুদ এবং ৩০ দিনের এলপিজি সরবরাহের মজুদ রয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সরকার আরও জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট নিয়ে যে ধরনের খবর বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা। এই ধরনের অপপ্রচারের ফলে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কেনাকাটার দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top