রাজ্য – প্রথম দফার ভোটের একেবারে আগে পাহাড়ি রাজনীতিতে নতুন করে তাপমাত্রা বাড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দার্জিলিংয়ে নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ভোট শেষ হলেই বাদ পড়া প্রতিটি গোর্খার নাম আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে। এই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখেই পাহাড়ে বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
শাহ অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতা ও ভূমিকার কারণেই বহু গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চিন্তা নেই, আমরা ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকের নাম আবার যুক্ত করা হবে।” এই বার্তার মাধ্যমে পাহাড়ে গোর্খা ভোটারদের আস্থার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিজেপি নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শাহ আরও বলেন, গোর্খা সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা মেলেনি। তাঁর দাবি, গত ছ’বছরে তিনবার বৈঠক ডাকা হলেও রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি স্পষ্ট করে দেন, “গোর্খাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আমরা কারও উপর নির্ভর করব না।”
এই সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুও জোরালোভাবে তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ তুলে কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনতার মতামত জানতে চান, যা ভোটার আবেগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
অন্যদিকে, একই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলদিয়া, ব্যারাকপুর এবং উত্তর কলকাতায় তাঁর একাধিক জনসভা করার কথা ছিল। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রোড শো ও জনসভায় অংশ নিচ্ছেন।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে। পাহাড় থেকে সমতল—সব জায়গাতেই প্রতিশ্রুতি, পাল্টা অভিযোগ এবং তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী ময়দান।




















