রাজ্য – আগামী বুধবার পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে ফের বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাতে হাওড়া জেলার বালি ও লিলুয়া থানার আইসি-কে বদলি করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
এর আগে শনিবার রাতেই কলকাতা পুলিশের কালীঘাট থানার ওসিকে বদলি করে কমিশন। চলতি বছরের ২৯ মার্চ ওই থানার ওসিকে প্রথমবার বদলি করা হয়েছিল এবং তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর উৎপল ঘোষকে। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই ফের পরিবর্তন করে নতুন ওসি হিসেবে গৌতম দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসির পদেও বদল আনা হয়, যেখানে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উত্তম পাইককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, কালীঘাট থানার সঙ্গে যুক্ত কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরই এই রদবদল করা হয়। একইসঙ্গে আলিপুর ও উল্টোডাঙ্গা মহিলা থানাতেও ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। আলিপুর থানার নতুন ওসি হয়েছেন সুব্রত পাণ্ডে এবং উল্টোডাঙ্গা মহিলা থানার দায়িত্ব পেয়েছেন চামেলি মুখোপাধ্যায়।
কালীঘাট থানা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়ায় এই রদবদলকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট, যেখানে ভবানীপুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
ভোটের সময় নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই বারবার পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগেও হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসিকে সরানো হয়েছিল। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই একাধিক আইপিএস ও প্রশাসনিক আধিকারিককে বিভিন্ন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট পরিচালনায় কোনও পক্ষপাতের অভিযোগ না ওঠে।
ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক থানার দায়িত্বে এই পরিবর্তন রাজ্য পুলিশের অভ্যন্তরেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে কমিশনের এই কড়া নজরদারি আগামী দিনেও আরও রদবদলের ইঙ্গিত দিতে পারে।


















