উত্তর 24 পরগণা – তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জগদ্দল। সেই অশান্তির রেশ ছড়িয়ে পড়ে ভাটপাড়াতেও। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন ভাটপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক পবন সিংয়ের নিরাপত্তায় থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনায় গোটা এলাকা থমথমে হয়ে রয়েছে।
ঘটনার পরই তৎপর হয় নির্বাচন কমিশন। জগদ্দলে রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া অশান্তি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, তিনি ডিজির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগদ্দলের আটচালা বাগান এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও RAF নামানো হয়। এরপর অভিযোগ দায়ের করতে জগদ্দল থানায় যান বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। সেই সময় তাঁর উপর ইটবৃষ্টি ও হামলার অভিযোগ ওঠে, এতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ফের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ। পাল্টা হামলার অভিযোগও ওঠে তৃণমূলের তরফে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে জগদ্দল থানার আইসি শেষ পর্যন্ত থানা চত্বরে থাকা দুই পক্ষকেই বাইরে বের করে গেটে তালা লাগিয়ে দেন।
এরপরই অভিযোগের মোড় ঘুরে যায় ভাটপাড়ার দিকে। অভিযোগ, থানার ঘটনার পর তৃণমূলের একাংশের লোকজন ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন সিংয়ের বাড়ির দিকে যায়। তখন পবন সিং বাড়িতে ছিলেন না। অভিযোগ, ওই বাড়িকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি ও গুলি চালানো হয়। সেই গুলিতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ানের পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকা এখন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা।


















