দিল্লিগামী বিমানে হেনস্তার অভিযোগ মহুয়ার, ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ রাখার দাবি

দিল্লিগামী বিমানে হেনস্তার অভিযোগ মহুয়ার, ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ রাখার দাবি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – দিল্লিগামী একটি ইন্ডিগো বিমানে হেনস্তার অভিযোগ তুললেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে সরকারি কাজে দিল্লি যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় বিমানের মধ্যেই একদল পুরুষ যাত্রীর বিরুদ্ধে “কুদৃষ্টি”, স্লোগান এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও করার অভিযোগ তোলেন সাংসদ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
মহুয়ার দাবি, ঘটনাটি ঘটে ইন্ডিগোর 6E 719 বিমানে। তিনি 1F আসনে বসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিমানে ওঠার পর ৪ থেকে ৬ জনের একটি পুরুষ যাত্রীর দল তাঁর দিকে “কুদৃষ্টি”তে তাকিয়ে ছিল। পরে বিমান অবতরণের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিমানের দরজা খোলার আগেই ওই যাত্রীরা কোনও অনুমতি ছাড়াই তাঁর ভিডিও করতে শুরু করেন। সেই ঘটনাকে তিনি সরাসরি “হেনস্তা” এবং নিজের নিরাপত্তার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ করা পোস্টে মহুয়া মৈত্র লেখেন, “এটি কোনও নাগরিক ক্ষোভ নয়, এটি স্পষ্টতই হেনস্তা।” তিনি ইঙ্গিত দেন, এই আচরণের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে না দেখে মহিলা নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেই দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার পর অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জারাপুকে ট্যাগ করে তিনি দাবি জানান, অভিযুক্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করে ‘নো-ফ্লাই লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হোক। পাশাপাশি ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের কাছেও তিনি আবেদন জানান, বিমানের ক্রুদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ করা হোক।
মহুয়ার পোস্ট করা একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কয়েকজন পুরুষ কণ্ঠকে “চোর-চোর”, “টিএমসি চোর”, “পিসি চোর”, “ভাইপো চোর” এবং “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দিতে শোনা যাচ্ছে।
এই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং এমকে স্ট্যালিন-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকেও ট্যাগ করেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বিষয়টিকে জনজীবনে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক আচরণের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ বলেও তুলে ধরেন।
যদিও এখনও পর্যন্ত ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে বিমান সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, কোনও যাত্রীকে ‘নো-ফ্লাই লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করার আগে সাধারণত অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন-এর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দেশের বিমান পরিষেবায় যাত্রীদের আচরণ, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top