বিদেশ – পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এবার হরমুজ প্রণালী নিরাপদে পার করল ভারতমুখী এলপিজি জাহাজ ‘এমভি সানসাইন’। জাহাজটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে নজরদারি চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই নিয়ে মোট ১৫টি ভারতমুখী এলপিজি জাহাজকে পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে নিরাপদে বের করে আনা হল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়লেও ভারতীয় জ্বালানি সরবরাহ যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহণ করা হয়। তাই পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এমভি সানসাইন-সহ প্রতিটি জাহাজের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সমুদ্রপথে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। ভারতমুখী জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বুধবার এক বেসরকারি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে। তাঁর কথায়, শান্তি ফিরলে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে ইরান কোনও পদক্ষেপ নেবে না।
আমেরিকার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত বরাবরই নিরপেক্ষ ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের আগেই কাজেম গরিবাবাদি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে কোনও শান্তি উদ্যোগ এলে তা স্বাগত জানাবে তেহরান।
ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ভারত ও ইরান একে অপরের অত্যন্ত কাছাকাছি।




















