রাজ্য – বিধানসভার অন্দরে এখন নতুন রাজনৈতিক আবহ। বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল উৎসবের পরিবেশ। তবে রাজনৈতিক আলোচনা ও শপথের আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই বিশেষভাবে নজর কাড়ল মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন। প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়ের উদ্যোগে বিজেপি বিধায়কদের জন্য রাখা হয়েছিল বিশেষ বাঙালি মেনু, যার মধ্যমণি ছিল মাছ-ভাত।
এদিন তাপস রায় নিজেই জানান, বাঙালির ঐতিহ্য ও রসনাকে মাথায় রেখেই এই মেনু তৈরি করা হয়েছে। মাছ-ভাত ছাড়া বাঙালির খাবারের পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না বলেই মনে করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আয়োজন শুধুই মধ্যাহ্নভোজ নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলার নতুন রাজনৈতিক পর্বেও বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস অক্ষুণ্ণ থাকবে— সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছে বিজেপি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনও সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরে মাছ-ভাতের ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এবার সেই একই বার্তা পৌঁছে গেল বিধানসভার অন্দরেও।
তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে এসেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি ও অস্মিতা বিপন্ন হবে। ভোট প্রচারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার এই ইস্যু তুলে ধরেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়ার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হতে পারে।
তবে পাল্টা প্রচারে বিজেপিও সরব হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে একাধিক বিজেপি নেতা-প্রার্থী প্রকাশ্যে মাছ খাওয়া, বাজার থেকে মাছ কেনা কিংবা বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতির প্রশংসা করেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই প্রচারেরই ধারাবাহিকতা দেখা গেল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের এই মধ্যাহ্নভোজে।
বিধানসভার নতুন সদস্যদের সামনে মাছ-ভাতের আয়োজনের মাধ্যমে বিজেপি কার্যত বোঝাতে চাইছে যে, তাদের সরকারেও বাঙালির চেনা সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও বাঙালিয়ানা অটুট থাকবে। ফলে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও এদিনের লাঞ্চ মেনু হয়ে উঠল আলাদা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।




















