রাজ্য – রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বুধবার নবান্নে অর্থ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল রাজ্যের বাজেট কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে ৪ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে সূত্রের খবর।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেটের খুঁটিনাটি পর্যালোচনার সময় মুখ্যসচিব জানতে চান, রাস্তা, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল-সহ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির কাজে কেন মোট বাজেটের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের বিপুল পরিমাণ অর্থ শুধুমাত্র অনুদান, জনমুখী প্রকল্প ও প্রশাসনিক খরচেই ব্যয় হচ্ছে, যা নিয়ে নতুন সরকার উদ্বিগ্ন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার উন্নয়নমূলক মডেলের ওপর জোর দিচ্ছে। সেখানে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা স্থায়ী সম্পদ তৈরির খাতে ব্যয় বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় রুখতেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সরকারি মহলের দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ, একশ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, পথশ্রী এবং ‘আপনার পাড়া আপনার সমাধান’-এর মতো প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ লুটের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছে। নতুন সরকার সেই সমস্ত ক্ষেত্র খতিয়ে দেখতে চাইছে।
নিয়ম অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসের জন্য ভোট অন অ্যাকাউন্ট আগেই পেশ করা হয়েছিল। ফলে আগস্ট মাস থেকে রাজ্যের খরচ চালাতে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই আগামী জুলাই মাসে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে।
মুখ্যসচিব ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এখন থেকেই বাজেট প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে হবে। সূত্রের খবর, উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখেই এবার বাজেট তৈরি করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের আর্থিক প্যাকেজের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। সেই সময় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় পরামর্শ দিয়েছিলেন, আগে রাজ্যের বাজেট ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা উচিত। এবার ২০২৬ সালে এসে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দরজা খুলে দিয়ে নিজেদের আর্থিক সংস্কারের পথেই হাঁটছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।



















