চিনির রফতানিতে বড় নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জারি থাকবে নির্দেশ

চিনির রফতানিতে বড় নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জারি থাকবে নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা অস্থিরতার আবহে দেশের বাজার ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। ভারত সরকার কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত চিনি রফতানির উপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর। বুধবার ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড বা ডিজিএফটির তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিনির রফতানিতে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে কেন্দ্র এখন খাদ্যপণ্যের মজুত সুরক্ষিত রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে নানা ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সব ধরনের রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকায় নির্দিষ্ট কোটার আওতায় চিনি রফতানি চালু থাকবে। এছাড়াও অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিমের আওতায় থাকা চালান, সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে রফতানি এবং ইতিমধ্যেই রফতানি প্রক্রিয়ায় থাকা পণ্যগুলিকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ১৩ মে-র আগে যেসব চালানে লোডিং শুরু হয়েছিল বা যেগুলি কাস্টমসের কাছে জমা পড়েছে, সেগুলিকেও ছাড় দেওয়া হবে। ফলে চলতি কিছু রফতানি কার্যক্রম আপাতত স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, আগামী মরসুমে দুর্বল বর্ষা এবং সার সরবরাহে সম্ভাব্য সমস্যার আশঙ্কা থেকেই সরকারের উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে আখ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সারের জোগানেও সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রের একের পর এক আর্থিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top