খেলা – দীর্ঘদিন টেস্ট ক্রিকেট না খেলেও আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের দাপট অটুট থাকল। বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ফের বিশ্বের এক নম্বর বোলারের আসন দখল করলেন ভারতীয় পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। ৮৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি রয়েছেন তালিকার শীর্ষে।
গত কয়েক মাসে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের একাধিক বোলার দুরন্ত পারফরম্যান্স করলেও বুমরাহর জায়গা টলাতে পারেননি কেউই। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা স্থানে রয়েছেন মহম্মদ সিরাজ। তিনি বর্তমানে ১২ নম্বরে আছেন। এছাড়াও রবীন্দ্র জাদেজা রয়েছেন ১৪ নম্বরে এবং কুলদীপ যাদব ১৫ নম্বরে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের। স্টার্ক উঠে এসেছেন দুই নম্বরে এবং কামিন্স রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি বর্তমানে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন।
ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের জো রুট। তাঁর রেটিং ৮৮০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডেরই হ্যারি ব্রুক। তিন ও চার নম্বরে যথাক্রমে ট্র্যাভিস হেড এবং স্টিভ স্মিথ।
ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সবার উপরে রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল। তরুণ বাঁহাতি ওপেনার বর্তমানে আট নম্বরে অবস্থান করছেন। তাঁর রেটিং ৭৫০। ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল এক ধাপ উঠে পৌঁছে গিয়েছেন নয় নম্বরে। তাঁর বর্তমান রেটিং ৭৩০।
গত বছর লাল বলের ক্রিকেটে শুভমান গিলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০২৫ সালে ৯টি টেস্টে তিনি করেছিলেন ৯৮৩ রান। তাঁর গড় ছিল ৭০.২১। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৬৯ রানের ইনিংস এখনও তাঁর কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যশস্বী জয়সওয়ালও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইনিংস খেলেছেন। নতুন বলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের শেষ টেস্ট সিরিজ ছিল গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেই সিরিজে ঘরের মাঠে ২-০ ফলে হেরেছিল ভারত। তারপর থেকে গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দল আর টেস্ট ক্রিকেট খেলেনি। ফলে বর্তমান র্যাঙ্কিং অনেকটাই পুরনো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি হলেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা এখনও বিশ্বক্রিকেটে দেশের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
চলতি বছরে ভারতের হাতে আপাতত মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। আগামী ৬ জুন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট খেলবে টিম ইন্ডিয়া। যদিও সেই ম্যাচ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। এরপর ভারতীয় দলের মূল ফোকাস চলে যাবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এবং ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে।




















