অফ বিট – শিমলা কিংবা মানালির অতিরিক্ত ভিড়ে হাঁসফাঁস করছেন? তাহলে এই গরমে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে উত্তরাখণ্ডের অপরূপ জোহর ভ্যালি। বরফে মোড়া হিমালয়, রঙিন ফুলে সাজানো উপত্যকা, হিমেল আবহাওয়া এবং নির্জন পাহাড়ি সৌন্দর্যে ভরা এই জায়গা যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অজানা স্বর্গরাজ্য।
উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত জোহর ভ্যালি ধীরে ধীরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। কুমায়ুন হিমালয়ের কোলে থাকা এই উপত্যকার শুরু মুন্সিয়ারি থেকে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৯৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সেখান থেকে গোরি গঙ্গা নদীর পাশ দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে এই মনোমুগ্ধকর উপত্যকা, যার শেষ মিলাম গ্লেসিয়ারের কাছে, তিব্বত সীমান্তের অদূরে।
চারপাশে নন্দা দেবী, ত্রিশূল, নন্দা কোট, হার্দেওল এবং বিখ্যাত পাঁচচুলি পর্বতমালার অপূর্ব দৃশ্য জোহর ভ্যালিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে সূর্যোদয়ের সময় পাঁচচুলির বরফঢাকা শৃঙ্গের রঙ বদলের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। সেই মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে দেয় মুহূর্তেই।
একসময় জোহর ভ্যালি ছিল ভারত ও তিব্বতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ভুটিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এই পথ দিয়েই পশম, লবণসহ নানা সামগ্রীর ব্যবসা করতেন। তবে ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে সেই বাণিজ্যও থেমে যায়। আজও মিলাম গ্রামের ধ্বংসাবশেষ সেই ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
গরমের সময়ই জোহর ভ্যালির সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ধরা দেয়। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বরফ গলে যাওয়ায় ট্রেকিংয়ের রাস্তা খুলে যায়। মে-জুন মাসে পাহাড়ি ফুলে ঢেকে যায় গোটা উপত্যকা। রডোডেনড্রনের রঙিন বন যেন প্রকৃতিকে আরও জীবন্ত করে তোলে। দেশের অন্যান্য প্রান্ত যখন তীব্র গরমে পুড়ছে, তখন জোহর ভ্যালিতে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ২০ ডিগ্রির বেশি ওঠে না। রাতের দিকে ঠান্ডা এতটাই বেড়ে যায় যে জ্যাকেট ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এখনও এই জায়গা বাণিজ্যিক পর্যটনের ভিড়ে হারিয়ে যায়নি। মানালি বা নৈনিতালের মতো অতিরিক্ত ভিড়, যানজট কিংবা কোলাহল এখানে নেই। বরং এখানে বেশি দেখা মেলে ট্রেকার, ফটোগ্রাফার, গবেষক এবং পাখিপ্রেমীদের। যারা এই গরমে একটু অন্যরকম, শান্ত এবং প্রকৃতির খুব কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য জোহর ভ্যালি হতে পারে একেবারে আদর্শ ডেস্টিনেশন।



















