কোচবিহার – বাম আমলে তৈরি হওয়া কোচবিহারের ক্যানসার হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে কিছু কাজ হলেও পরে ফের হাসপাতালের পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের। এবার সেই হাসপাতালের হাল ফেরাতে এবং নতুন করে চিকিৎসা পরিষেবা শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবার কোচবিহারের সার্কিট হাউসে পৌঁছে হাসপাতাল সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক করেন মিঠুন চক্রবর্তী। হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের মিঠুন জানান, কম খরচে ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। রাজ্য সরকারের সাহায্যের পরেও যদি অতিরিক্ত আর্থিক বা প্রশাসনিক সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই সাহায্য আনার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তরাই-ডুয়ার্স-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকে বহু ক্যানসার আক্রান্ত রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে আর্থিক সংকট ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে হাসপাতালের পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই হাসপাতাল গড়ে উঠলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে সেটি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবার মান অবনতি হয়েছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের।
এর আগেও কোচবিহার সফরে এসে হাসপাতালের অবস্থা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার এই অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এবার সেই হাসপাতালের উন্নয়নে কীভাবে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া যায়, তার রূপরেখাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই পরিস্থিতিতে কোচবিহারের ক্যানসার হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত হলে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হবেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এখন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় হচ্ছে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেই আবহেই কোচবিহারের ক্যানসার হাসপাতাল নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর এই উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।




















