রাজ্য – বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর সীমান্ত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গুজরাট সফরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ভারতে প্রবেশ করতেন, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার মানুষ ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
তিন দিনের গুজরাট সফরে গিয়ে অমিত শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতেন, কিন্তু এখন সেই প্রবণতা উল্টো দিকে ঘুরেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যান, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে দেশে ফেরানো কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অমিত শাহ জানান, এই বিষয়ে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যেই প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও তথাকথিত ‘চিকেনস নেক করিডর’-এর জন্য ১২১ হেক্টর জমি কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল। বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অমিত শাহ আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর আশা, সরকারিভাবে চিহ্নিতকরণ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাবেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, সীমান্ত সুরক্ষা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তাও দেন অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির প্রভাব গঙ্গার উৎস গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।



















