রাজ্য – দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার বিকেল থেকেই জোড়া কালবৈশাখীর প্রভাবে আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দুপুর আড়াইটে নাগাদ দমদম এবং দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার উপর দিয়ে প্রবল কালবৈশাখী বয়ে যায়। দমদমে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার, আর কলকাতায় তা পৌঁছয় ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে।
শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই শুক্রবার ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের প্রভাব দেখা গিয়েছে। কালবৈশাখীর সঙ্গে হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাতও। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে দুর্যোগের সম্ভাবনা বেশি।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও স্বল্প সময়ের জন্য হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়-বৃষ্টির জেরে আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকবে। তবে রবিবারের পর থেকে আবার ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও আজ এবং আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে। শনিবার মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
রবিবার এবং সোমবার উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে আবার আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ু নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং লাক্ষাদ্বীপ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি হয়েছে। কেরল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বর্ষা প্রবেশের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।



















