সোনারপুর-কাণ্ডে বিজেপির সংযমের দাবি, তৃণমূলকে পাল্টা বার্তা শমীকের

সোনারপুর-কাণ্ডে বিজেপির সংযমের দাবি, তৃণমূলকে পাল্টা বার্তা শমীকের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বিজেপি সংযমের পথ বেছে নিয়েছে বলেই আজও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিরাপদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি কোনওভাবেই রাজনৈতিক হিংসা বা শারীরিক হেনস্থাকে সমর্থন করে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা রাজ্যে নানা ধরনের অত্যাচার, হামলা ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতে বহু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বিজেপি প্রতিশোধের রাজনীতি না করে গণতান্ত্রিক পথেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
শমীকের দাবি, যদি বিজেপি অন্য পথ বেছে নিত, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অশান্ত ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির সংযমকেই তিনি গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা তাঁর উপর চড়াও হয় বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। অভিষেক জানিয়েছেন, হামলার সময় তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে হেলমেট পরতে হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি ছিল না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে তৃণমূল সাংসদ স্পষ্ট জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তিনি বিষয়টি ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি ঘিরেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। প্রথমে কামালগাজি এলাকায় অভিষেকের কনভয়ের সামনে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠে। পরে গাড়ি ছেড়ে মোটরবাইকে করে গন্তব্যে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল হামলার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ সামনে এনে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ফলে সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top