রাজ্য – তৃণমূলের ভরাডুবির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশ্বাস ব্রাদার্স। ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর গ্রেফতারের পরই অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত সুরুচি সংঘ ক্লাবকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান এবং ক্লাবে ঢুকে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয়দের দাবি, ক্লাবের উপরের একটি ঘরে বিলাসবহুল ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একটি কিং সাইজ বেড, একাধিক চেয়ার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং উন্নত মানের আসবাবপত্র রাখা ছিল। পাশাপাশি সংলগ্ন শৌচালয়ের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একটি সামাজিক ক্লাবের ভিতরে এই ধরনের ব্যবস্থা কেন রাখা হয়েছিল, তার জবাব পাওয়া প্রয়োজন।
এছাড়াও ক্লাবের অন্য একটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্র্যান্ডের পানীয় জল ও ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার মতো শাড়ি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ তাঁকে ধাওয়া করে মারধর করে। পরে তিনি নিউ আলিপুর থানায় আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান।
উল্লেখ্য, টলিউডের এক মেকআপ শিল্পীর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পর কাজের জন্য যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। পরে ফের যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয় স্বরূপ বিশ্বাসকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।




















