রাজ্য – সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্প্রতি দলবদল করা একাধিক সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ। মহুয়ার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই আইনি পদক্ষেপের ভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি এক পোস্টে মহুয়া মৈত্র দাবি করেছিলেন, দলত্যাগী কয়েকজন সাংসদ অর্থের বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে দল পরিবর্তন করেছেন। এই মন্তব্যের জেরেই রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
মহুয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্য, কোনও আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক আদর্শ এবং দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বাংলার উন্নয়ন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখেই তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে দলবদলকারী সাংসদদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ সাংসদই মানহানির মামলা দায়েরের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের মতে, মহুয়ার মন্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই আদালতের মাধ্যমে এই অভিযোগের আইনি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। একাধিক সাংসদ ও নেতা দলত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মুখও রয়েছেন। অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র নিজের রাজনৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে পূর্বের শিবিরেই রয়েছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব থেকেছেন।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে তা আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা আদৌ আনুষ্ঠানিকভাবে মানহানির মামলা দায়ের করেন কি না এবং সেই বিষয়ে মহুয়া মৈত্র কী প্রতিক্রিয়া জানান তার উপর।


















