রাজ্য – রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সভা বা বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে পুলিশি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কর্মীদের ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, দলের অঞ্চল সভাপতি থেকে শুরু করে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব সভা করতে গেলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসবের মধ্যেও দলীয় কর্মীদের ভেঙে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মীদের উদ্দেশে মহুয়া বলেন, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন এবং সেই জনসমর্থনকে কোনওভাবেই স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অতীতেও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক লড়াই চলেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই লড়াই অব্যাহত থাকবে। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে সামনে রেখে তিনি জানান, ওই দিন দলের নেতৃত্ব আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরবেন।
শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও এদিন সরব হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মধ্যাহ্নভোজে ডিম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রী এই খাবারের উপর নির্ভরশীল। তাঁদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সরকারি প্রকল্পগুলিকে বিচার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ডিমের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ উপকৃত হতেন। নতুন বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, যাঁরা এই সুবিধার বাইরে থেকে যাবেন তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের ভূমিকা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।




















