ভাঙচুরে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কড়া আইন আনছে রাজ্য, বিধানসভায় উঠছে নতুন সংশোধনী বিল

ভাঙচুরে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কড়া আইন আনছে রাজ্য, বিধানসভায় উঠছে নতুন সংশোধনী বিল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যে মিছিল, দাঙ্গা, অবরোধ বা রাজনৈতিক অশান্তির সময় সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে সরকার। সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ সরাসরি দায়ীদের কাছ থেকে আদায়ের আইনি ব্যবস্থা করতে চায় রাজ্য সরকার।

বিল অনুযায়ী, একটি ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠন করা হবে। এই কমিশন নির্ধারণ করবে কোনও ঘটনায় কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, কারা দায়ী এবং কার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। শুধু সরকারি সম্পত্তিই নয়, বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষেত্রেও এই কমিশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে।

নতুন আইনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত, রাস্তা বা রেল অবরোধ, সরকারি দফতর, যানবাহন, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। শুধু সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরাই নন, অভিযোগ অনুযায়ী যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, সংগঠিত করেছেন, আর্থিক সহায়তা করেছেন বা আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আর্থিক দায় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিলে সরকারি সম্পত্তির সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্পত্তি, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পদ, সরকারি সংস্থা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তা, সেতু, বাস, সরকারি যানবাহনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো এই আইনের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে কোনও ঘটনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও ক্লেমস কমিশনের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা যাবে।

কমিশন সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি তলব, সরকারি রিপোর্ট সংগ্রহ, বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মতো ক্ষমতা পাবে। সম্পত্তির বাজারমূল্য, ক্ষতির পরিমাণ, মেরামতের খরচ, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রকৃত ক্ষতির পাশাপাশি অতিরিক্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ এবং সুদ ধার্য করারও ক্ষমতা থাকবে কমিশনের।

বিল অনুযায়ী, নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ না দিলে তা বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসেবে আদায় করা যাবে। একই ঘটনায় ফৌজদারি মামলা চললেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলবে। সরকারের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকলেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের আর্থিক দায় আর এড়ানো যাবে না।

এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার বলছে, এতে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে বিরোধী মহলের একাংশের প্রশ্ন, এই আইনের প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষ হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিলের সুযোগ না থাকা ভবিষ্যতে বিতর্কের কারণ হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top