রাজ্য: উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ সফরে প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকের পর তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন, “যারা চুরি-চামারি করেছেন, তারা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন।”
প্রথম দফার বৈঠকে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে প্রতিটি কাজের জন্য কলকাতার উপর নির্ভর করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, বর্তমানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আধিকারিক বা পরিষেবা সেখানে কার্যত নেই। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ দফতর এবং ডিভিশনাল কমিশনারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক স্বার্থে নেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত অফিস করছেন না। একই অভিযোগ তোলেন জিটিএ (GTA)-র ক্ষেত্রেও।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সপ্তাহের সাত দিন এবং দিনে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করে। তাই কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া মেনে নেওয়া হবে না। তিনি নির্দেশ দেন, যেসব পঞ্চায়েত প্রধান, জেলা পরিষদের সদস্য বা অন্যান্য জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারি করতে হবে।



















