রাজ্য: বাংলায় ৬০০ কোটি টাকার হোসিয়ারি শিল্প এবং ১,৫০০ কোটি টাকার ইস্পাত কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, টাটা গোষ্ঠী যদি পশ্চিমবঙ্গে একটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বা অ্যাসেম্বলি ইউনিট এবং একটি ডেটা সেন্টার গড়ে তোলে, তাহলে রাজ্যের শিল্পায়নের চরিত্র আমূল বদলে যেতে পারে। এই মন্তব্যের পরই শিল্পমহলে নতুন করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টরকে আগামী দিনের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)—প্রায় প্রতিটি আধুনিক প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি এই সেমিকন্ডাক্টর চিপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের মতোই কৌশলগত গুরুত্ব পাবে এই শিল্প।
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর চিপের ঘাটতির কারণে অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর ভারত সরকারও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পে জোর দিয়েছে। দেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখনও বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই টাটা গোষ্ঠী অসমের জাগিরোডে প্রায় ২৭,১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক OSAT (Outsourced Semiconductor Assembly and Test) প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে। এই প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন চিপ প্যাকেজিং এবং প্রতিদিন প্রায় ৪.৮ কোটি চিপ প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৭ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এই মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গেও একটি আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বিনিয়োগই নয়, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ এবং রাজ্যের শিল্পায়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।




















