কলকাতা: মিড-ডে মিলে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে স্কুল শিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ দেওয়া হচ্ছে না। ইসকন প্রোটিনসমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার সরবরাহ করলেও রাজ্য সরকার আলাদা করে ডিম দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মিড-ডে মিলে ডিম থাকছে। ইসকন প্রোটিনযুক্ত খাবার দেবে পড়ুয়াদের, আর রাজ্য আলাদা করে ডিম দেবে।” তাঁর এই ঘোষণার পর মিড-ডে মিলের খাদ্যতালিকা নিয়ে চলা বিতর্কে স্পষ্ট বার্তা দিল রাজ্য সরকার।
এর আগে সরকার জানিয়েছিল, মিড-ডে মিলে উন্নতমানের ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে, পরে ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ইসকনের সরবরাহ করা নিরামিষ খাদ্যতালিকায় ডিম না থাকায় বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে যে পড়ুয়ারা পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হবে। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা দায়ের হয়। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ইসকনের নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আলাদাভাবে ডিম সরবরাহ করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মিড-ডে মিলের বরাদ্দেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে উচ্চ প্রাথমিক ও হাইস্কুল স্তরে মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা, আর প্রাথমিক স্তরে ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। এবার সেই বৈষম্য দূর করে প্রাথমিক স্তরেও মাথাপিছু ১০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন বরাদ্দ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের মধ্যে বরাদ্দের বৈষম্যও দূর হবে।



















