বর্ধমান মেডিক্যালে পরিচ্ছন্নতায় ‘শূন্য’! কড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বায়োমেট্রিক থেকে অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাপ—একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত

বর্ধমান মেডিক্যালে পরিচ্ছন্নতায় ‘শূন্য’! কড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বায়োমেট্রিক থেকে অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাপ—একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দু’দিনের টানা পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পরিস্থিতি দেখে পরিচ্ছন্নতায় কার্যত ‘দশে শূন্য’ নম্বর দেন তিনি। একইসঙ্গে হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার জেলায় গিয়ে প্রথমে বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন।

পরিদর্শনের পর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে এখনও গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় প্রতি ১০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন করার উপর জোর দেন তিনি।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি ভাবে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় সিনিয়র প্রাইভেট চিকিৎসক এবং সিনিয়র রেসিডেন্টদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েকদিন পরিষেবার কাজে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে যাতে কোনওভাবেই রোগী পরিষেবা ব্যাহত না হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য।

হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দালালির অভিযোগ রুখতে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আধার-সংযুক্ত বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। তাঁর সাফ বার্তা, ‘আসি, যাই, মাইনে পাই’—এই সংস্কৃতি আর চলবে না। কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

মেডিক্যাল কলেজের নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্রুত নির্বাচন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই গোটা বিষয়টি সম্পন্ন করার বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দু’দিনের পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একাধিক নির্দেশ ও প্রস্তাব ঘিরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পরিষেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, ঘোষিত পদক্ষেপগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসক ঘাটতির মতো সমস্যাগুলি কতটা মেটে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top