রেজিনগর:
উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে। তার মধ্যেই রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ তিন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম আনারুল হক, রমেশ শেখ এবং নুরুল হক। পুলিশ সূত্রে দাবি, পুরনো একাধিক মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতেই শক্তিপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনে তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে।
তবে এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই তাঁর দলের বিশ্বস্ত নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেফতার করা হচ্ছে। হুমায়ুনের অভিযোগ, বিজেপির ইশারা ও পরামর্শেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করছে। তাঁর আরও দাবি, রেজিনগরে তাঁর দলের হয়ে ভোটের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন এই তিনজন। যদিও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরনো মামলায় থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এই গ্রেফতারির জেরে রেজিনগরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। এর আগেও উপনির্বাচনের আগে AJUP-এর একাধিক নেতা-কর্মীর গ্রেফতারি ঘিরে সরব হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি রেজিনগর থানার সামনেও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছিলেন। ফলে ভোটের মুখে পরপর গ্রেফতারি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, ভোটমুখী নন্দীগ্রামেও রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত। সেখানে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারের সময় গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। যদিও কংগ্রেসের এই অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে খারিজ করেছে বিজেপি। দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।




















