ইউনেস্কোর নাম করে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রির অভিযোগ! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির হানা, কলকাতার ১০ ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি

ইউনেস্কোর নাম করে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রির অভিযোগ! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির হানা, কলকাতার ১০ ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা:

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং প্রবেশপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকালেই কলকাতার একাধিক ঠিকানায় একযোগে অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবার ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি ছাড়াও তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের ঠিকানাতেও তল্লাশি চলছে। তাঁর বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্দ্রনীল সেন এই মুহূর্তে বাড়িতে রয়েছেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

ইডির তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ‘প্রি-পুজো’ টিকিট বিক্রিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ কয়েকজনকে ঘিরে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। সংস্থাটি ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা তাদের অফিসিয়াল পার্টনার বলে দাবি করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো আয়োজন করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার বাছাই করা প্রায় ২৪টি দুর্গাপুজোকে নিয়ে এই বিশেষ প্রিভিউ শো আয়োজন করা হত। পুজো শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের জন্য বিশেষ প্রবেশপত্র বা টিকিট বিক্রি করা হতো। অভিযোগকারীদের দাবি, সেই টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ইউনেস্কোর নাম ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতির কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়।

তবে অভিযোগগুলি নিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। ইন্দ্রনীল সেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থার ইউনেস্কোর অনুমোদন সংক্রান্ত নথি রয়েছে এবং তিনি কেন এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না। সংস্থার এক আধিকারিকও অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথি তদন্তকারীদের সামনে পেশ করার কথা জানিয়েছেন। ফলে এদিনের ইডি অভিযানের পর তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য উঠে আসে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top