‘দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে’, মোদী সরকারকে নিশানা খাড়্গের, সিজেপি ইস্যুতে সিজেআইয়ের দ্বারস্থ বিরোধীরা

‘দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে’, মোদী সরকারকে নিশানা খাড়্গের, সিজেপি ইস্যুতে সিজেআইয়ের দ্বারস্থ বিরোধীরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে যুব সমাজের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। পুলিশের পদক্ষেপ এবং একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করল কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, দেশে কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার বিকেলে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার উদ্যোগ নিয়েছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির একাধিক এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছু জায়গায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের আটক করার ঘটনায় সরব হয়েছে সংগঠনটি। সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলন যাতে বড় আকার নিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই নেতৃত্বকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য ছিল, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা এড়াতেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাকে আটক করার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। পাশাপাশি সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকেও আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

রবিবার পুলিশের বিপুল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর দাবি, শনিবার দিল্লিতে প্রায় ৩২ হাজার পুলিশকর্মী এবং সাড়ে ৭ হাজার সিআরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। খাড়্গের বক্তব্য, যুব সমাজের প্রতিবাদ মোকাবিলায় এত বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘটনা সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ, বিরোধী নেতাদের আটক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের প্রস্তাবিত বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নজর তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য ও পুলিশের ব্যাখ্যা—দুই দিকই সামনে রেখে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top