নয়াদিল্লি
ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পরবর্তী প্রজন্মের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল BrahMos-NG তৈরির উদ্যোগে জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আকারে ছোট ও ওজনে হালকা এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি, প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
আকারে ছোট, প্রযুক্তিতে উন্নত ব্রহ্মস-NG
বর্তমান ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় BrahMos-NG-কে আরও ছোট ও হালকা করে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানে এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস নিয়ে জল্পনা
BrahMos-NG-র পাশাপাশি আরও দীর্ঘপাল্লার ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাও ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আলোচনার বিষয়। প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হলে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বাড়তে পারে।
সামরিক পরিভাষায় এই ধরনের কৌশলকে বলা হয় ‘স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক’। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি না গিয়েই দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা।
পরিকল্পনা ঘিরে এখনও রয়েছে অনিশ্চয়তা
তবে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত নকশা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য পরিষেবা শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত সরকারি তথ্য এখনও সীমিত। ফলে এই পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টিকে নিশ্চিত প্রকল্প বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, BrahMos-NG-র উন্নয়ন এবং আরও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এই উদ্যোগগুলির বাস্তব অগ্রগতি ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের উপর।




















