কলকাতা
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে উৎসবের আবহে সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা দর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে এই উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে দেবীর চরণে পদ্মফুলের ডালি নিবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী। নিষ্ঠাভরে প্রণাম করার পাশাপাশি পুজোর জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া মিষ্টিও নিবেদন করেন তিনি। পরে পুজোমণ্ডপে প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু খান মুখ্যমন্ত্রী।
এই উপস্থিতির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, উৎসবের দিনে ওই বাড়িতে সাংসদ, বিধায়ক কিংবা রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ের কোনও ভেদাভেদ নেই। পুজোমণ্ডপে উপস্থিত প্রত্যেকেই আমন্ত্রিত অতিথি ও ভক্ত—এটাই তাঁর বক্তব্য।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় এক মাস আগেই সাংসদ তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। গতকালও বার্তা পাঠিয়ে সেই আমন্ত্রণের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। সেই আন্তরিক আমন্ত্রণেই সাড়া দিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু।
রাজনৈতিক সমীকরণের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে এনডিএ-র অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁদের সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাঁকে নিজের বাসভবনে ডেকে একসঙ্গে প্রাতরাশ করতে পারেন, তাঁর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণ গ্রহণ করার মধ্যে কোনও অসংগতি নেই।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের আবহে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি করেছে।




















