কলকাতা
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আবহে বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশবাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উপর জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি, নাবালিকা বিবাহ ও নেশার মতো সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়ির পুজোয় যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের আরও পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আরও শক্ত হাতে আইন কার্যকর করতে হবে।”
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
মহিলাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু আইন তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগও জরুরি বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৮টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে, যার মধ্যে ছ’টি পকসো (POCSO) মামলা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সাজা কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি অপরাধীদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি করতে পারে। তাই অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।
মহিলাদের নিরাপত্তায় নেশামুক্ত সমাজের উপর জোর
মহিলাদের সুরক্ষার সঙ্গে নেশার সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নেশার প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে না পারলে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নেশামুক্তি না ঘটলে বাংলার আমাদের মা-বোন, দিদি-কন্যারা সুরক্ষিত থাকবে না। আমি মনে করি, এই বিকৃত মানসিকতার মূলে রয়েছে নেশা।”
বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশকে নেশামুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাও জরুরি বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহিলাদের নিরাপত্তা, আইনের কঠোর প্রয়োগ, অপরাধীদের শাস্তি এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।




















