আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতির পালাবদলের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা এবং ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া সম্ভাবনার আবহে বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার প্রায় ৯ শতাংশ পতনের পর বৃহস্পতিবারও এক শতাংশের বেশি কমেছে তেলের দাম। ফলে গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক বাজার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৩.৮৬ ডলার, যা ০.৮০ শতাংশ কম। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১.৩৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৬.৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে ইন্ডিয়ান ক্রুড বাস্কেটের দামও প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১০৭ ডলারে নেমেছে।
তেলের দামের এই পতন ভারতের জন্য যথেষ্ট স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ, ভারত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমার সম্ভাবনা থাকে। হিসাব অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলার কমলে ভারতের বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে।
কী এই ইন্ডিয়ান ক্রুড বাস্কেট?
ইন্ডিয়ান ক্রুড বাস্কেট হল ভারত যে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার একটি ওজনযুক্ত গড় মূল্য। ভারতীয় শোধনাগারগুলির কেনা অপরিশোধিত তেলের গড় খরচ বোঝার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই বাস্কেটে মূলত দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল রয়েছে—সাওয়ার গ্রেড এবং সুইট গ্রেড। সাওয়ার গ্রেডের মধ্যে ওমান ও দুবাই ক্রুডের বেঞ্চমার্কের গড় মূল্য ধরা হয়। ইন্ডিয়ান ক্রুড বাস্কেটের প্রায় ৭৫ থেকে ৭৯ শতাংশ জুড়ে থাকে এই ধরনের তেল। অন্যদিকে, বাকি প্রায় ২১ থেকে ২৫ শতাংশ হল সুইট গ্রেডের অপরিশোধিত তেল।
ভারতের অধিকাংশ শোধনাগার মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ সালফারযুক্ত ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের উপযোগী করে তৈরি। তাই ইন্ডিয়ান ক্রুড বাস্কেটে সাওয়ার গ্রেডের অংশ বেশি।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় ভারতের অর্থনীতিতে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের এই পতনের সুফল দেশের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে জ্বালানির দাম এবং সরকারি শুল্কনীতির উপর।




















