নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম ,১৬ই আগস্ট :দুচোখে স্বপ্ন শিক্ষক হওয়ার।সেই স্বপ্ন নিয়ে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে এমএ তে ভর্তি হওয়ার আবেদন জানায় সিউড়ি দু নম্বর ব্লকের গাংটে গ্রামের সুব্রত দাস।আবেদনের ভিত্তিতে লিস্টে চার নম্বরে নাম এসেছে তার,কিন্তু ভর্তির জন্য ৬০০০ টাকা জমা দিলে তারপর এই চূড়ান্ত পর্বের বাছাই ,সেখানেই দারিদ্রতার সামনে হার মানতে হচ্ছিল সুব্রত দাসকে, কিন্তু সুব্রত নাছোড়বান্দা বিশ্বভারতীতে ভর্তি হতেই হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

বাবা মোহন দাস গ্রামে গ্রামে সাইকেলে করে সবজি বিক্রি করেন। যা উপার্জন হয় তিন জনের সংসার তাতে কুলায় না ,ফলে শত ইচ্ছা থাকলেও বাবার কাছে ভর্তির টাকা চাইতে না পেরে সামান্য টাকার কয়েকটা টিউশনি এবং শেষমেষ নিজের রক্ত বেচার সিদ্ধান্ত নেয় সুব্রত।পড়াশোনা চালানোর জন্য এর আগেও সে রক্ত বিক্রি করেছে অনেকবার। এবার বিশ্বভারতীতে ভর্তি টাকা জোগাড় করার জন্য আইনসিদ্ধ না হলেও সেই রক্ত বিক্রির পথেই পা বাড়িয়েছে সে।

নিজের কষ্টে জমানো টাকায় মোবাইল বিক্রি করে ও টিউশনি পড়ানোর আগাম টাকা নিয়ে হাজার চারেক টাকা জমা করতে পারলেও ৩০০০ টাকা এখনো জোগাড় হয়নি। আজ টাকা জমা দেওয়ার শেষ দিনে তাই ঘুম নেই তার। হতদরিদ্র পরিবারে ভাঙাচোরা ঘরে পড়াশোনাও দায়। মাটির ঘরে বাল্বের আলোয় দু চোখে শিক্ষক হওয়ার তার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা সময়ই বলবে।
যদিও এই খবর পাওয়া মাত্রই অতিরিক্ত জেলা শাসক, জেলা পরিষদ দীপেন্দু বেরা তাকে ডেকে পাঠায় এবং জেলা পরিষদে এসে অতিরিক্ত জেলা শাসকের সাথে দেখা করলে বাকি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা শাসক। ফলে স্বভাবতই খুশি সুব্রত।



















