
নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,২২শে সেপ্টেম্বর : দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনের মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করে চলেছেন অমল নায়েক নামের এক শিক্ষক। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী হাইস্কুলের এই শিক্ষক তার বেতনের টাকা থেকে সারা বছরই বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কাজ করে থাকেন। কিন্তু গত চার বছর ধরে তিনি ব্যাঘ্র বিধবাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সারা বছর ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে ব্যাঘ্র বিধবা ও তাদের পরিবারকে সাহায্যের পাশাপাশি গত চার বছর ধরেই পুজোর আগে তাদের নিয়ে মিলন উৎসব পালন করছেন। এদিন প্রায় পাঁচশো বাঘে আক্রান্ত পরিবারের হাতে পুজোর নতুন শাড়ী, জামা কাপড়ের পাশাপাশি সারা মাসের রেশনের চাল, ডাল, তেল, সয়াবিন তুলে দেওয়া হয়। পড়ুয়াদের দেওয়া হয় নতুন জামা কাপড় ও বই খাতা।
সুন্দরবনে থাকার সুবাদে এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত পরিবার গুলির কষ্ট দেখেছেন অমল নায়েক। বাঘের হামলায় পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটির মৃত্যুর পর ভেসে যেতে দেখেছেন সমগ্র পরিবারকে। সন্তানদের পড়াশুনা বন্ধ, পেটের তাগিদে মহিলারা সেই জঙ্গলে গিয়েছেন বাঘের ভয় উপেক্ষা করে, যেখান থেকে তাদের স্বামীরা আর ফেরেননি। এই সমস্ত কিছু দেখে কয়েক বছর আগে স্টাফ(সেফ টাইগার এফেক্টেড ফ্যামিলি) নামে একটি সমাজসেবী সংগঠন তৈরি করেন অমল নায়েক। সেখানে নিজের বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে শুরু করেন এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত পরিবার গুলির পাশে দাঁড়ানোর লড়াই। আজ অমল নায়েক অনেকখানি সফল। প্রথমে পঞ্চাশটি পরিবারকে নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে সেটি পাঁচশো ছুঁয়েছে। দায়িত্ব ও অনেক বেড়েছে তার। পাশে পেয়েছেন দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য, পূর্ণেন্দু রায়দের। আর তাদেরকে নিয়েই এই সমস্ত পরিবার গুলিকে রক্ষার কাজে নেমে পড়েছেন এই শিক্ষক। শুধুমাত্র বছরে একবার নয়, সারা বছর ধরেই অমল নায়েক ও তার সহযোগীরা এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত মানুষগুলির পাশে দাঁড়ান। তাদের বিকল্প কর্ম সংস্থানের ও ব্যবস্থা করেছেন। স্টাফের এই উদ্যোগে খুশি সুন্দরবনের বাঘে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। শনিবার বাসন্তীর শিবগঞ্জে চম্পা মহিলা সোসাইটির উদ্যোগে এই মিলন উৎসব পালিত হয়।



















