
রায়া সাধুঃ মোটা বইয়ের সিলেবাস সহ কঠিন ইঁদুর দৌড়ে সামিল নব প্রজন্ম। তাদের রবি ঠাকুরের ছোট গল্প, শরত চন্দ্রের উপন্যাস কিংবা নজরুলের কবিতা পড়ার সময় কোথায়! এই প্রজন্ম আপাতত ব্যস্ত মাল্টিপ্লেক্সে রঙ্গিন ছবি দেখতে নয়তো ঠান্ডা গরম কফিতে চুমুক দিতে। আবার পার্কে জুটি বেঁধে গল্পে মত্ত।

শুধু তাই নয় বরং অবসরে জোম্যটো, স্যুইগির অর্ডারে বাড়িতে বিন্দাস ফিউশান পার্টিতে ব্যস্ত। এসব তো রয়েইছে, তারসঙ্গে লাভগুরুর আশীর্বাদ, কিংবা প্রেমে ছ্যাকা খাওয়াতেও পার্টির বিশাল আয়োজনে মত্ত যৌবন। আবার অফিসে বসের সুনজরে পড়ে প্রমোশান টু টার্গেট ফস্কে ডিমোশানেও থাকছে গেট টুগেদারের ব্যবস্থা। কি নেই আজকালকার দিনে।

প্রতিযোগিতায় নামা মানুষগুলো যেন সময়ের বাধা নিয়মের কর্মচারী। সময় যে গতিতে ছুটাবে সেই গতিতেই ছুটতে হবে। না পারলে কক্ষচ্যুত হয়ে যাবে। জীবন দরিয়ায় ভাসার নামে পার্টি হপিং থেকে মার্কেটিং সবই দরকার। তবে এসবের ভিড়ে কবিগুরু, নজ্রুলের ছবিতে ধুলো জমছে। কিছু বুদ্ধিজীবিদের রোজনামচায় তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, জামানায় তারা আজ ব্যাকডেটেড নামে পরিচিত।

এই ব্যাকডেটেডদের বাড়ি জন্মদিনে পায়েস, রথের মেলার পাপড় এমনকি জন্মষ্টমীতে তালের বড়া আর পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠে-পুলি বেশ প্রিয়। কেক-পেস্ট্রি-কোলা-পিৎজার স্বাদ যেন নিমেষে হার মেনে যায় পিঠে-পুলি-পায়েসের কাছে। তাই জমানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে রুচিতে দেখা দিয়েছে অনেক বড়ো ফারাক। বলাই বাহুল্য যে, ইদানীং সময় বড়ো বালাই। কিন্তু কিছু করার নেই। তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটাই শ্রেয়।


















