কলকাতা – আর জি কর ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে।
এদিন সিবিআই আদালতে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তদন্তে তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর থেকে তদন্ত কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি আদালত প্রশ্ন তোলে, সিবিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন তদন্তের নির্দেশ যথাযথভাবে বুঝতে পেরেছে কি না।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব পায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। আদালত ঘটনার স্থান নতুন করে ঘিরে তদন্ত চালানো, বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনসহ একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল। তবে আদালতের মতে, সেই নির্দেশগুলি যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়নি।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত সিটের তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেয়। বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, শুধুমাত্র মূল অভিযুক্ত নয়, কেউ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। আদালতের মতে, তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত।
শুনানিতে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা সিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্তভার সিআইডির হাতে দেওয়ার আবেদন জানান। যদিও আদালত আপাতত সিবিআইয়ের উপরেই আস্থা রেখে তদন্ত দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৬ আগস্টের রিপোর্টের উপরই তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।




















