পহেলগাঁও হামলার জবাব ‘অপারেশন সিন্দুর’, সেনার প্রশংসায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

পহেলগাঁও হামলার জবাব ‘অপারেশন সিন্দুর’, সেনার প্রশংসায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দেশ – ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলায় পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগের প্রমাণ সামনে আসার পর ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় জলবণ্টন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল। পহেলগাঁও হামলার জবাব হিসেবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযান চালায়। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণে সেই অভিযানের প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

অপারেশন সিন্দুর এবং ভারতীয় সেনার ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট বার্তা দেন, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের সাহায্যকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের নিজেদের কাজের পরিণতি ভোগ করতে হবে। অপারেশন সিন্দুর সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার শক্তির প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গোটা বিশ্ব অপারেশন সিন্দুর দেখেছে। ভারত সন্ত্রাসবাদ মেনে নেবে না। জঙ্গিরা ফের মাথাচাড়া দিলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে স্যালুট জানান রাষ্ট্রপতি। সন্ত্রাসে যারা উসকানি দেবে, তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথাও এদিন তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের কৃষকদের কোনওভাবেই সমস্যায় ফেলা যায় না এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

শুধু সন্ত্রাসবাদ বা জাতীয় নিরাপত্তা নয়, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের যাতে শিক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের কথা শুনতে হবে এবং দেশের কোনও মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন। দেশের অন্নদাতা কৃষক, ছাত্রছাত্রী, শিল্পী, সমাজসেবী এবং সাফাই মিত্ররা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

১৪ অগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর প্রসঙ্গও উঠে আসে রাষ্ট্রপতির ভাষণে। দেশভাগের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ যে ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন, তা স্মরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে সেই কঠিন সময়েও মানুষ নিজেদের শিকড় এবং ঐতিহ্য ভুলে যাননি বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বার্তা, তেরঙ্গা ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক এবং দেশকে সর্বশ্রেষ্ঠ করে তোলার মধ্যেই স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top