দিল্লী – আসল শিবসেনা কোনটি—একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবির, নাকি উদ্ধব ঠাকরের গোষ্ঠী? শিবসেনার নাম ও ‘তির-ধনুক’ প্রতীক নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি পেশ করল শিন্ডে শিবির। তাদের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিধায়কদের সমর্থনকে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক বলা যায় না।
শিন্ডে শিবিরের বক্তব্য, ২০২৩ সালের ‘সুভাষ দেশাই’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ‘লেজিসলেটিভ মেজরিটি টেস্ট’ বা আইনসভার সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ ভাবে বাতিল করেনি। ফলে শিন্ডে গোষ্ঠীর পক্ষে থাকা অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও আইনি ভুল করেনি বলেই দাবি তাদের।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে। শিন্ডে শিবিরের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী নীরজ কিশন কল। তাঁর বক্তব্য, ‘সুভাষ দেশাই’ রায়ে এমনটা বলা হয়নি যে নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশে পরিষদীয় দলের কোনও উল্লেখ বা ভূমিকা থাকতে পারে না। বরং ‘সাদিক আলি’ মামলার নজির অনুসরণ করে সাংবিধানিক বেঞ্চ বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেও প্রাসঙ্গিক একটি পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কল আরও বলেন, ‘সুভাষ দেশাই’ মামলায় রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তা মূলত দলের হুইপ নিয়োগের প্রেক্ষাপটে। পরিষদীয় দলের নিয়োগ করা হুইপকেই রাজনৈতিক দলের হুইপ হিসেবে গণ্য করা যাবে কি না, সেটিই ছিল সেই মামলার অন্যতম বিচার্য বিষয়।
শিন্ডে শিবিরের আইনজীবীর বক্তব্য, সেই রায়ের ভিত্তিতে বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষা সম্পূর্ণ ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা আইনগত ভাবে সঠিক নয়। তাঁর আরও যুক্তি, নির্বাচন কমিশন যখন শিন্ডে গোষ্ঠীকে আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘তির-ধনুক’ প্রতীক বরাদ্দ করেছিল, তখন ‘সুভাষ দেশাই’ মামলার রায় প্রকাশিত হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে দেওয়া একটি রায়কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগও তোলা যায় না।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘আসল শিবসেনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে বালাসাহেব ঠাকরের প্রতিষ্ঠিত শিবসেনার ‘তির-ধনুক’ নির্বাচনী প্রতীকও শিন্ডে শিবিরকে দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়েই এবার সুপ্রিম কোর্টে চলছে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।




















