বিদেশে – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা ঘিরে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরানের তরফে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত জুলাইয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ফেরার সময় অত্যন্ত গোপনীয় কৌশলে বিমান বদল করা হয়েছিল ট্রাম্পের। বাইরে থেকে দেখানো হয়েছিল, তিনি পরিচিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এই সফর করছেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোপনে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে সফর করেছিলেন। এই বিমানটিকেই ভবিষ্যতে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সম্মেলন শেষে ফেরার সময় মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক হয়। এরপরই ট্রাম্পকে পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর বদলে আরও নিরাপদ একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারা বিমানবন্দরে গোটা ঘটনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে সাংবাদিক ও সাধারণ পর্যবেক্ষকদের কাছে মনে হয় ট্রাম্প পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এই ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কিন্তু গোপনে তাঁকে একটি ছোট সামরিক বিমান, এয়ার ফোর্স C-32A-তে তুলে দেওয়া হয়। এমনকি বিমান বদলের বিষয়টি আড়াল করতে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
নিরাপত্তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ ছিল ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হুমকিটি নির্দিষ্টভাবে কোনও একটি বিমানের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং ট্রাম্প যে বিমানেই সফর করবেন, সেটিকেই সম্ভাব্য লক্ষ্য করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও কাতার-প্রদত্ত নতুন বিমানে সেই সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তখনও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়নি বলে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল।
এই ঘটনার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন বিমানটিতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।



















