রাজ্য – কেন্দ্র সরকারের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর প্রথম মাসেই কাজের সুযোগ প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার তথ্য সামনে এল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন প্রকল্পে মোট ৭ কোটি ৬৭ লক্ষ পার্সন-ডে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প বা মনরেগার আওতায় এই সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৩৩ লক্ষ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মসংস্থান তৈরির পরিমাণ প্রায় ৪৯.৯৪ শতাংশ কমেছে।
দীর্ঘদিনের মনরেগা প্রকল্পের পরিবর্তে গত ১ জুলাই থেকে কেন্দ্র সরকার নতুন ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড জীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্প চালু করেছে। কেন্দ্রের দাবি, এটি মনরেগার আরও উন্নত ও কার্যকর সংস্করণ। নতুন প্রকল্পে গ্রামীণ মানুষের জন্য বছরে কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে।
গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ‘পার্সন-ডে’ বলতে একজন শ্রমিককে একদিনের কাজ দেওয়াকে বোঝানো হয়। সেই হিসাবেই প্রকল্পের আওতায় মোট কর্মসংস্থানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নতুন প্রকল্প চালুর প্রথম মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দাবি, মনরেগা থেকে নতুন প্রকল্পে রূপান্তরের ফলে কাজের বাস্তবায়নে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, নতুন প্রকল্পে কাজ চেয়ে আবেদন করা ৯৯.৫ শতাংশেরও বেশি শ্রমিককে কাজ দেওয়া হয়েছে। ২২ জুলাই পর্যন্তই ৫ কোটি ২০ লক্ষের বেশি পার্সন-ডে তৈরি হয়েছিল বলেও সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছিল কেন্দ্র।
তবে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের পরিসংখ্যান সামনে আসার পর ছবিটা কিছুটা ভিন্ন বলেই মনে করা হচ্ছে। পুরো মাসের হিসাব অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় নতুন প্রকল্পের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী বার্ষিক কাজের নিশ্চয়তা বাড়লেও বাস্তবে প্রথম মাসেই কর্মসংস্থান তৈরির এই পতন নতুন প্রকল্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।




















