কলকাতা – কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস। পুরভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে সপ্তাহের শেষে দলের সিনিয়র নেতৃত্ব এবং পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা পুরসভার ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত গণশুনানিতে দলীয় প্রতিনিধিদের কীভাবে এবং কী তথ্য-মানচিত্র নিয়ে হাজির হতে হবে, তার গাইডলাইনও ঠিক করে দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ডিলিমিটেশনের পর কলকাতায় যে ২০৯টি ওয়ার্ড হচ্ছে, তার প্রতিটিতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ‘আসল’ তৃণমূলের প্রার্থীরা লড়াই করবেন। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাতেও প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক স্বার্থে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পুরভোটের সামগ্রিক রণকৌশল চূড়ান্ত করতে সপ্তাহ শেষে সিনিয়র নেতৃত্ব এবং নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নেতারা একসঙ্গে বসে ‘কালেক্টিভ ডিসিশন’ নেবেন বলেও জানান তিনি।
ঋতব্রত শিবিরের ঘনিষ্ঠদের দাবি, পুরভোটের আগেই দলের নির্বাচনী প্রতীক এবং তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রায় চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীদের ভোটে লড়াই করতে আরও সুবিধা হবে বলে মনে করছে শিবিরটি। এদিনই ঋজু দত্তকে দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্বও দিয়েছে ‘আসল’ তৃণমূল।
অন্যদিকে, এসআইআরে আবেদন করা যাঁদের নাম এখনও ট্রাইবুনালে আটকে রয়েছে, তাঁদের নাম পুজোর আগেই ভোটার তালিকায় তোলার জন্য রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে ঋতব্রত শিবির। এই বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ‘আসল’ তৃণমূল।
পুরভোটের রণকৌশল নিয়ে সপ্তাহ শেষে বৈঠক ডাকার আগে মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানের সঙ্গেও এক দফা আলোচনা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের প্রস্তুতি গতি পেয়েছে। বিজেপিও নির্বাচনী কমিটি গঠন করে মাঠে নেমে পড়েছে। পালটা ‘আসল’ তৃণমূলও সংগঠনকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছে।
পুরসভার সর্বদলীয় বৈঠকেও ডিলিমিটেশন নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে এসেছেন বিধানসভার উপদলনেতা সন্দীপন সাহা। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতিদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই কলকাতায় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি যে জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট।




















