স্বাস্থ্য – কুকুরের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরও জলাতঙ্কে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি কুকুরের টিকাকরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা গেলে কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষের মধ্যে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষ কোনও না কোনও প্রাণীর কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে কুকুরের কামড় দায়ী। একই হিসাবে ভারতে প্রতি বছর জলাতঙ্কে প্রায় ৫,৭২৬ জনের মৃত্যু হয়। বিশ্বজুড়ে এই রোগে বছরে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
জলাতঙ্কের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। তবে কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক নিলে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, শুধু কামড়ের পর চিকিৎসার উপর নির্ভর না করে রোগের উৎস নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাকরণকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেরলে প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে কামড়-পরবর্তী প্রতিষেধক চিকিৎসা পান এবং দেশের মধ্যে সেখানে টিকার কোর্স সম্পূর্ণ করার হারও তুলনামূলক বেশি। তবুও ২০২৫ সালে রাজ্যে ৩৩ জনের জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শিশুও ছিল। ফলে মানুষের টিকাকরণের পাশাপাশি কুকুরের টিকাকরণ কতটা কার্যকরভাবে বাড়ানো যায়, সেটিই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।



















