গভীর রাতে বহুতলের সুইমিং পুলে উদ্ধার দশম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ! আটতলা থেকে পড়ে মৃত্যু, নেপথ্যে কী—রহস্য ঘনাচ্ছে দক্ষিণ কলকাতায়

গভীর রাতে বহুতলের সুইমিং পুলে উদ্ধার দশম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ! আটতলা থেকে পড়ে মৃত্যু, নেপথ্যে কী—রহস্য ঘনাচ্ছে দক্ষিণ কলকাতায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসনের সুইমিং পুল থেকে উদ্ধার হল ১৫ বছরের এক কিশোরীর দেহ। শহরের একটি নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আবাসনের আটতলা থেকে পড়ে নীচের একটি বারান্দায় ধাক্কা খেয়ে শেষে সুইমিং পুলে গিয়ে পড়েছিল কিশোরী। তবে সে কেন আটতলায় গিয়েছিল, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

ঘটনাটি কয়েক দিন আগের। রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা সুইমিং পুলে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান। দ্রুত সেখানে গিয়ে জলের মধ্যে কিশোরীকে দেখতে পান তাঁরা। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তদন্তে নামে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। আবাসনের আটতলার ফায়ার এক্সিটের বারান্দা থেকে উদ্ধার হয় কিশোরীর মোবাইল ফোন। অথচ সে ছ’তলায় থাকত। ফলে কীভাবে এবং কেন সে আটতলায় পৌঁছেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ময়নাতদন্তে কিশোরীর ঘাড়, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর কারণ জলে ডুবে যাওয়া। তদন্তকারীরা আবার আবাসনের ছ’তলার ঠিক নীচের একটি বারান্দায় রক্তের দাগ দেখতে পান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আটতলা থেকে পড়ার সময় ওই বারান্দায় প্রথমে ধাক্কা লেগেছিল কিশোরীর। পরে সেখান থেকে ছিটকে গিয়ে সে সুইমিং পুলে পড়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও যে অংশের বারান্দায় কিশোরী পড়েছিল, সেটি ক্যামেরার আওতায় ছিল না। ফলে ঘটনার কোনও সরাসরি ফুটেজ এখনও পুলিশের হাতে আসেনি। পাশাপাশি কিশোরীর পারিবারিক পরিস্থিতি এবং মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। কিশোরী বাবার সঙ্গেই থাকত এবং মায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ তুলনামূলক কম ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তার পরীক্ষা চলছিল এবং অঙ্ক ও বাংলা পরীক্ষা নিয়ে সে মানসিক চাপে ছিল। পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক পরিস্থিতি নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top