রাজ্য- দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের শেষে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। এবার প্রকাশ্যে তিনি জানান, মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান।
মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর যাত্রা শুরু হয় বলে জানা যায়। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও সামলান। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সৌজন্য, মূল্যবোধ এবং সুস্থ আলোচনার জায়গা ক্রমশ কমে আসছে। তাঁর মতে, কুৎসা ও অপপ্রচারের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারছিলেন না বলেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক এবং জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।
তবে রাজনীতি থেকে সরে গেলেও তিনি জনজীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে চান না। ভবিষ্যতে লেখালেখি বা মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে আর কাজ না করার কথাও স্পষ্ট করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলে অনেক অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়ানো যেত। যদিও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরোধী শিবিরের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি শুভেন্দুকে একজন অভিজ্ঞ ও লড়াকু নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্যও করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক হিংসা ও অসহিষ্ণুতা কমিয়ে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।




















